ক্রমাগত ভয়াবহ হচ্ছে তুফানগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি। মাঠে নেমে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে মহকুমা প্রশাসক ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরা।।

প্রতিবছরের মতো এবছরও বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে তুফানগঞ্জের নাককাটি গাছ এবং শহর পৌর এলাকার পাঁচ নাম্বার ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশ।সোমবার সকাল হতেই কোচবিহার জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করল। তুফানগঞ্জ মহকুমার রায়ডাক এক নাম্বার নদী গতকাল রাত থেকেই লাল সতর্কতার মধ্যে ছিল।

জল ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে পৌর এলাকার 5 নাম্বার ওয়ার্ড, পঞ্চায়েত এলাকার কামাক ফুলবাড়ি এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে 900 পরিবারকে উদ্ধার করেছে তুফানগঞ্জ মহকুমার প্রশাসন এবং পৌরসভার। তাদের স্থানীয় ইলা দেবী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এন এম এম হাই স্কুল,ইলা দেবী হাই স্কুল, রায়ডাক ভবন এ সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দফায় দফায় এলাকায় পৌঁছেছে মহকুমা প্রশাসন এবং তৃণমূল নেতৃত্ব।

তুফানগঞ্জ এর বিদায়ী কাউন্সিলর অম্লান বর্মা এবং তুফানগঞ্জ মহাকুমা তৃণমূলের কনভেনার শিবু পাল এলাকায় পৌঁছান। দেখা মেলেনি বিধায়কের। এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার ইতিমধ্যেই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পৌরসভার তরফ থেকে বন্যা দুর্গতদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তাদের চিরে, মুড়ি, শুকনো খাবার, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রচুর শিশু ত্রাণশিবির গুলিতে উঠে এসেছে। তাদের শিশু খাদ্য এবং সাধারণ ওষুধের ব্যবস্থা করেছে তুফানগঞ্জ মহাকুমা প্রশাসন। তুফানগঞ্জ নাককাটি গাছ, বালাভুত, ঝাউ কুঠি প্রভৃতি এলাকার মানুষদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তারা স্থানীয় স্কুলগুলিতে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

শিবু পাল জানান,মহাকুমা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বন্যা দুর্গতদের পাশে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, তাদের ত্রাণ শুকনো খাবার এবং ত্রিপালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচুর মানুষকে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলিতে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে নৌকার মাধ্যমে উদ্ধারকার্য চলছে। রবিবার রাত থেকে ক্রমাগত জল বাড়তে শুরু করেছে রায়ডাক এক, বুড়া রায়ডাক, কালজানি, ঘরঘড়িয়া, গদাধর নদী গুলিতে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তুফানগঞ্জ এর বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি কোচবিহার 2 নম্বর ব্লক এর গোপালপুর, মধুপুর এলাকায় তোরসা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। জল বাড়ার পাশাপাশি ভাঙন অন্যতম চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের। মাথাভাঙ্গা সংলগ্ন মনসাই নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কোচবিহার জেলা শাসক পবন কাদিয়ান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি ব্লকে সতর্ক করা হয়েছে, প্রতিটি ব্লগ প্রশাসন উদ্ধারকার্যে নেমেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং ত্রিপাল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি প্রশাসনের আয়ত্তাধীন রয়েছে।

কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় এদিন সকাল থেকেই ত্রাণ দিচ্ছেন জেলা তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়।বিভিন্ন স্কুলে যেখানে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার করে রাখা হয়েছে সে সমস্ত এলাকায় খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃষ্টিপাত আরো বাড়লে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক আকার ধারণ করবে। কোচবিহার সংলগ্ন প্রায় প্রতিটি নদীর জল ঊর্ধ্বমুখী বলে জানান ইরিগেশন ইঞ্জিনিয়ার স্বপন সাহা।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন