বাউল রিপন
বাংলাদেশ প্রতিনিধি
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটা কালো অধ্যায় চলছর বলা যায়। দেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে দু’বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাসপেন্ড করেছে আইসিসি। আর এই ঘটনা শুধু তাঁর নিজের জন্য নয়, গোটা দেশের পক্ষেই লজ্জাজনক। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কী করে আইসিসির নিয়ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকেও মানলেন না, সেটা নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্ব উত্তাল।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, জুয়াড়িদের ফোন পেলে তা আইসিসিকে জানাতেই হবে। না জানালে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে শাস্তি পেতে হবে। আর সেটাই হয়েছে সাকিবের ক্ষেত্রেও। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য জুয়াড়িদের ফোন পেয়েছিলেন। যদিও তিনি তাতে রাজি হননি। কিন্তু সেটা একবারও আইসিসিকে জানাননি। আর সেটাই আইনত অপরাধ। তবে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। আইসিসিকে তদন্তে সাহায্যও করেছেন। তাই তাঁর শাস্তি কিছুটা লঘু হয়ে দু’বছরের পরিবর্তে একবছর হয়েছে বলে খবর। যদি একবছরের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনওরকম অভিযোগ না ওঠে, তবে আগামী ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন সাকিব।

শাস্তি শোনার পর আইসিসির ওয়েবসাইটকে সাকিব বলেন, ‘আমার ভালোবাসার খেলা থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ। তবে আইসিসিকে রিপোর্ট না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা আমি মেনে নিচ্ছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার জন্য খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীল আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ)। কিন্তু আমি এক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটার এবং ভক্তদের মতো আমিও চাই দুর্নীতিমুক্ত ক্রিকেট। আমি আইসিসির এসিইউ টিমের শিক্ষা প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে চাই এবং আমি যে ভুল করেছি তা যেন আর কোনও তরুণ ক্রিকেটার না করেন সেটি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে চাই।’ যদিও বাংলাদেশে অনেকেই আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে লঘু পাপে গুরুদণ্ড বলে মনে করছেন। তবে এই ধরনের ঘটনা না ঘটলে আগামী ২২ নভেম্বর ইডেনে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচে টস করতে সাকিবই নামতেন সম্ভবত।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন