টানা ন’মাস ধরে ডুয়ার্সের মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন এক সময়কার সিপিএম-এর সাংসদ তথা দাপুটে নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা ন’মাস বিরামহীন ছোটা! টানা ন’মাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে চাঙ্গা করতে বহু প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখে পড়লেও নিজের লক্ষ্য থেকে এক ইঞ্চিও তাঁকে নড়াতে পাড়েনি কেউ। আলিপুরদুয়ার জেলার পাহাড়-বন বস্তি-গ্রামাঞ্চল মায় শহরের অলিগলিতে পৌঁছে সিপিএম-এর ধাঁচে সংগঠনকে এতোটাই মজবুত করে ফেলেছেন যে, বিজেপি একটি অংশের নেতাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে!
কংগ্রেস ঘরানার দল বলে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার এক মাস আগে মূলত গা ঝাড়া দিয়ে বসতেন নেতারা! ২০১৯’শের আলিপুরদুয়ারে যার সুযোগ অনেকটাই নিয়ে ফেলেছিল বিজেপি। তলে তলে বিজেপি যে ভাবে সংগঠন মজবুত করে ফেলেছিল তা বুঝতে বুঝতে পারেন নি নেতাদের বড় অংশ। তৎকালীন তৃণমূলের আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা তো রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন, তাঁদের আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দু থেকে আড়াই লাখ ভোটে জিতবেন। ফলাফল হয় তার ঠিক উল্টো।

জেলার ৬৭ টি চা বাগানের মধ্যে ৬৬ টি চা বাগানে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল।
আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে যে হার হয়েছে সে রিপোর্ট যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। দলকে চাঙ্গা করতে আলিপুরদুয়ারের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঋতব্রতকে। বামপন্থী ঘরানার ঋতব্রত ডুয়ার্সকে হাতের তালুর মতো চেনেন। শুরু করেন কর্মী সভা। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের কাছে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার , সে বিষয়ে তাঁদের মতামত চান। বেশ কিছু নেতৃত্বকে সে জন্য পদ খোয়াতে হয়। বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেও তাঁর মনোবল দুর্বল করতে পারেন নি কেউ।

চা বাগানের শ্রমিক সংগঠন চাঙ্গা করতে রাজেশ লাকড়া, প্রকাশ চিক বরাইক, লিওস বরাইক, প্রকাশ টোপ্পো সহ পাশাং লামার নেতৃত্বে মন্ত্রী মলয় ঘটকের উদ্যোগে শিলিগুড়িতে চা শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস উদ্বোধন করে তৃণমূল চা শ্রমিক উইনিয়ন তৈরি করা হয়। চা বাগানের শ্রমিকদের নেতৃত্বে চাঙ্গা করে তোলা হয় শ্রমিক ইউনিয়নটি। প্রতিটি চা শ্রমিকের ঘরে ঘরে রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের জন্য কোন কোন প্রকল্প চালু করেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিফলেট, ক্যালেন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘন ঘন গেট মিটিং-এর মাধ্যমে তৃণমূলের চা শ্রমিক ইউনিয়ন আজ অনেকটাই চাঙ্গা হয়েছে বলে নেতাদের দাবি।

একের পর এক কর্মী সভা করে দলের প্রচার কি ভাবে চালাতে হবে সেই প্রশিক্ষণ আজও দিয়ে চলেছেন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ ঋতব্রত। যে নেতারা ঘরে বসে গিয়েছিলেন তাঁরা আজ উজ্জীবিত হয়ে ঘরে ঘরে প্রচার চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে “দিদির ডায়ারি” (যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ৫৬ টি প্রকল্পের লিফলেট )পৌঁছে দিয়েছেন কর্মীরা।
আলিপুরদুয়ার জেলার এক তৃণমূল নেতার কথায়, “ এই জেলায় বিজেপি যে ভাবে সংগঠন বিস্তার করছিল তাতে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে ঋতব্রত জেলায় আসার পর বিজেপি অনেকটাই কোণঠাসা হে পড়েছে। যে ভাবে প্রচার চলছে তাতে বিধানসভায় পাঁচটি আসনে জয়লাভ করা নিশ্চিত।“
ঋতব্রতের কথায়, “দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করছি। আশাকরি ফলাফল ভালোহবে।“

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন