বাউল রিপন বাংলাদেশ প্রতিনিধি
দারুন জনপ্রিয় তারকা তাহসান।একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল।সম্ভবত ২০১৭ সালে।তখন কলকাতায় একটা মিউজিক ভিডিওর কাজ করছিলাম আমি।K77 থেকে DGvoice অর্থাৎ মহানায়ক উত্তমকুমার মেট্রো স্টেশন থেকে কাজী নজরুল অব্দি ভীষন ব্যস্ত সময় পার করছিলাম আমি।তখন কলকতার একজন বিখ্যাত কন্ঠশিল্পী আমার কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন তাহসানকে নিয়ে।তাহসান কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গেই ভীষন জনপ্রিয়। আমার কেন যেন মনে হয় বাংলাদেশের চেয়ে পশ্চিবঙ্গেই তাহসানের জনপ্রিয়তা বেশী। সম্প্রতি ছোটপর্দায় শততম নাটকের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন তাহসান। এ নিয়ে ফেসবুকে তাহসান লিখেছেন যে, আমার ১০০তম নাটক “কল্পতরু” ১০০তম কাজটা একটু আলাদা ভাবে করতে চেয়েছিলাম গ্রুপ এ গল্প চেয়ে একটা পোস্ট দেওয়া হয়েছিলো দুমাস আগে সেখান থেকেই বাছাই করা এই গল্প। আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মিথিলা তার নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।নিজের অবস্থান শক্ত করে গড়ে তুলেছেন তিনি। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট ভালোবেসে সংগীতশিল্পী তাহসানকে বিয়ে করেন মিথিলা। তাদের সংসারে আইরা তেহরীম খান নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দু’জনের বনিবনা না হওয়ায় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিচ্ছেদে যান তারা। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘ ১১ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন। ঘটনার দুই মাস পর ওই বছরের ২০ জুলাই ফেসবুকে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাহসান-মিথিলা। বিচ্ছেদের পর মিথিলা বলেছিলেন, একটি ইস্যু নিয়ে তো আর কখনো বিচ্ছেদ হয় না।
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মেয়ের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা এত সহজ নয়। কিন্তু একটা সময় আমাকে মেনে নিতে হয়েছে এটাই বাস্তবতা। জীবনচলার পথের একটা সময় এসে আমরা বুঝতে পারলাম, দুজন মানুষ যার যার জায়গা থেকে দুই ধরনের জিনিস চাই। তাহসানের জীবনের লক্ষ্য হয়তো একরকম, আমার হয়তো আরেক রকম। তবু দুজন ভিন্ন রকম মানুষ তো একসঙ্গে থাকে। আমরাও থেকেছি। শেষ পর্যন্ত আর হলো না। আমাদের যখন বিয়ে হয়, তখন আমাদের দুজনের বয়সই অনেক কম। আমাদের ক্যারিয়ারও একসঙ্গে গড়ে উঠেছে। এমন না যে, কেউ কারও আগে বা পরে এসেছি। সেসব দিক থেকে আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা ছিল না। কিন্তু একটা সময় এসে মনে হচ্ছিল, ১১ বছর আগের একজন মানুষ আর পরের একজন এক থাকে না। অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। তাই বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। আর বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে তাহসান বলেছিলেন, সমাজ কী বলবে—এই ভয়ে অভিনয় করে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে হবে, আমরা দুজন এ ব্যাপারে একমত নই। তাদের বক্তব্যে বিচ্ছেদের কারণ স্পষ্ট না হলেও তখন ভক্তদের অনেকে এর জন্য তাহসানকে দায়ী করেছিলেন। তাহসান-মিথিলার বিচ্ছেদের দুই বছরেরও বেশি সময় পর ফের আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। গত সোমবার (৪ নভেম্বর) নির্মাতা ও পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে মিথিলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয়। ফাঁস হয় ফাহমির সঙ্গে মিথিলার খোলামেলা শরীরের ভিডিও চ্যাট করার কিছু ছবিও। এর পরই ফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহসান-মিথিলার বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। অনেকেই এখন এই জুটির বিচ্ছেদের জন্য মিথিলাকে দায়ী করছেন। প্রশ্ন তুলছেন মিথিলার পরকীয়া প্রেম নিয়েও। ছবি ভাইরাল হওয়ার পর মিথিলার ভাষ্য, এটা অস্বাভাবিক কোনো ছবি না। আর এ বিষয়ে পরিচালক ইফতেখার ফাহমিও তার স্পষ্ট বক্তব্য জানিয়েছেন। তিনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, হ্যা মিথিলা আর আমার পরকিয়া হয়েছে। একবার নয় অনেকবার। আর এটা নিয়ে মজা করার কিছুই নেই। আমরা দুজন জাস্ট ফ্রেন্ড। মিথিলার সঙ্গে ছোটপর্দার নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমির পুরনো কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে ঝড় উঠে ফেসবুক ও দেশের সব গণমাধ্যমে।
এরই মধ্যে মিথিলা ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করায় সাইবার অপরাধ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। গত তিনদিন ধরে ফেসবুকে ভাসছে কিছু ছবি। কেউ সেসব ছবি শেয়ার করছেন, কেউবা তা প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদের মধ্যে অনেকেই আশার আলো দেখছেন। মাঝে মধ্যেই পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়, অমুক এলাকায় তমুককে ধর্ষণ, ভিডিও প্রকাশের হুমকি। অর্থাৎ ধর্ষক শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার সেই বীভৎস অপরাধের ভিডিও করে রেখেছেন।
আর হুমকি দিয়েছেন, যদি ধর্ষণের কথা সেই নারী প্রকাশ করেন, তাহলে তার ভিডিও প্রকাশ করে দেবেন। গণমাধ্যমে এরকম কিছু ঘটনার কথা মাঝে মাঝে প্রকাশ পায়। তবে, ধারণা করা যায় অনেক নারী হয়ত নিজের একান্ত গোপন মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ হওয়ার ভয়ে চুপ করে থাকার পথই বেছে নেন। আর সেই চুপ করে থাকার সুযোগ নিয়ে তাদের শারীরিক-মানসিক ধর্ষণ করা হয়। নারীদের এই যে গোপন ছবি-ভিডিও প্রকাশ হওয়ার ভয়, এই ভয় কাটানো জরুরি । কেননা এই ভয় শুধু ধর্ষণের মতো ঘটনাকে আড়াল করতে নয়, সামাজিকভাবে নারীকে নানাভাবে হেয় করার মতো কাজেও ব্যবহারের চেষ্টা রয়েছে। তাই নারীর মন থেকে এই অহেতুক ভয় দূর করাটা জরুরি। আর এক্ষেত্রে এক চমৎকার উদাহরণ হতে পারে অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও তাঁর এক প্রাক্তন ছেলেবন্ধুর প্রকাশিত ব্যক্তিগত ছবিগুলো। বর্তমান যুগে দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা হরহামেশা যেসব ছবি তোলেন, এগুলোও সেরকমই ছবি। যে যেভাবেই হোক, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এবং প্রচলিত আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ছবিগুলো প্রকাশ করে দিয়েছেন। আর তাই নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিতর্ক। ফেসবুকে দেখা গেল অনেকে সেসব ছবি প্রকাশের মাধ্যমে এক ধরনের বিকৃত আনন্দ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার মিথিলার এই সম্পর্ককে ‘অবৈধ, অনৈতিক, অসামাজিক’ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে নিন্দা করছেন। ভাবখানা এমন তারা বুঝি সমাজের বড় বড় রক্ষক। অথচ তাদের অনেকের ফেসবুক প্রোফাইল একটু ঘাটলেই দেখা যাবে এমন সব ফেসবুক পাতা, গ্রুপে তাদের বিচরণ, যার সঙ্গে তাদের এই রক্ষক

অথচ তাদের অনেকের ফেসবুক প্রোফাইল একটু ঘাটলেই দেখা যাবে এমন সব ফেসবুক পাতা, গ্রুপে তাদের বিচরণ, যার সঙ্গে তাদের এই রক্ষকের ভূমিকা একেবারেই বেমানান। যাক সেকথা, মিথিলা বিতর্কের ইতিবাচক দিকটাতে আসি এবার। ফেসবুকে গত দুদিনে অনেককে মিথিলার পাশে দাঁড়াতে দেখলাম। এক তরুণী তো রীতিমত ফেসবুক লাইভে এসে জানতে চেয়েছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী তাঁর ব্যক্তি জীবনে কী করবেন, কার সঙ্গে দেখা করবেন, কার সঙ্গে থাকবেন, তাতে অন্যের কী! অনেকেই মনে করেন মিথিলার ব্যক্তিগত ছবি তাঁর সম্মতি ছাড়া প্রকাশের মাধ্যমে চরম অন্যায় করা হয়েছে। এটা একজন ব্যক্তির গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায় ব্যক্তির গোপনীয়তা অত্যন্ত কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়। এদেশে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিসরের ছবি তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা গুরুতর অপরাধ। একজন চিকিৎসক তাঁর রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য বিনা অনুমতিতে তৃতীয় কারো সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন না। গণমাধ্যম চাইলেই সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করতে পারে না। এমনকি নিরাপত্তার খাতিরে যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে, সেখানে সে সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। এদেশের আদালতে অনেক সময় গোপনে ধারণ করা ভিডিও কোনো ঘটনার প্রমাণ হিসেবে আমলে নেন না, যদি সেটা অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত পরিসরে ধারণ করা হয়ে থাকে। এই ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। গত মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) তিনি এই অভিযোগ দেন। পাশাপাশি ফাঁস হয়ে যাওয়া ছবি সম্পর্কে খোলাখুলি জানান মিথিলা।
ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কী ঘটেছে তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে আসিনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে যা হয়েছে, সেই সম্পর্কে নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে চাই। এসব ছবির কিছু বাস্তব, কিছু মনগড়া। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কিছু অপরাধী প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এগুলো অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছে।’ ২০১৭-১৮ সালে ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে মিথিলার প্রেম ছিলো। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক থাকাকালের কিছু ছবি ফাঁস হয়েছে। এ বিষয়টি খোলাসা করে মিথিলা লেখেন, ‘নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারার দায়টা আমারই। ফাহমির ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক হয়েছিলো। তখনই অপরাধীরা খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য এগুলো খুঁজে নিয়েছে। এখানে ডেটিং শব্দটির ওপর জোর দিতে চাই, যার অর্থ আমরা একটি সম্পর্কে ছিলাম।

সহজভাবে বললে দুটি মানুষ একে অপরের সঙ্গে জড়ালে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটায়, ছবি তোলে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার সম্মান ও মর্যাদা শুধু আমার আকার আর পোশাকের কিংবা ব্যক্তিগত ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনে কঠোর পরিশ্রম, সৃজনশীলতা ও শিক্ষার মাধ্যমে সব অর্জন করেছি। আমার অতীতের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো চুরি করে কিছু অপরাধীর কুকর্মের কারণে এসব ভেঙে যাওয়ার মতো ঠুনকো নয়।’ তবে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মোটেও লজ্জিত নন মিথিলা। পোস্টে তা সাফ জানিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘আমার লজ্জা লাগছে এই ভেবে, দেশের কিছু কুৎসিত লোক আমার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচ্ছেমতো পোস্ট, শেয়ার ও ব্যবহারের সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। আমার খ্যাতি ও ভাবমূর্তিকে অসম্মান করে তারা সাবস্ক্রিপশন বাড়াচ্ছে ও নানান খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে।’ সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ জানানোর তথ্য দিয়ে মিথিলা হুঁশিয়ার করেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় যারা আমার মান-সম্মান নিয়ে খেলেছে সেই দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে ছাড়বো। শপথ করছি, নিজের জন্য এবং হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীদের শিকার হওয়া সবার জন্য লড়বো।’

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন