কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: কেন্দ্রের বাজেটকে “ভেকধারী সরকারের ফেকধারী বাজেট” বলে কটাক্ষ করলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যা সহ অন্যান্য দলত্যাগিদের চার্টার্ড প্লেনে করে দিল্লি যাওয়ারও কড়া সমালোচনা করলেন উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাড়িয়ে। বাংলায় যে টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরী করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার সেই টাকা কৃষকদের দিয়ে দিতে বলেন তিনি। বাংলায় রাস্তা তিনি বানিয়ে নেবেন।

সোমবার শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে দশমতম উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সঙ্গে এই মঞ্চ থেকে বেশ গোটা উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি উন্নয়নমুলক কাজের উদ্বোধন করলেন মূখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে অন্যতম গজডোবা যাওয়ার পথে তিস্তা নদীর ওপর জয়ী সেতু ও হলদীবাড়ি থেকে মেখলিগঞ্জ যাওয়ার জন্য একটি সেতু ও কোচবিহারের দেবী কামতেশ্বরী সেতু। হলদীবাড়ি থেকে মেখলিগঞ্জ যাওয়ার জন্য সংযোগকারী সেতু হওয়ায় ৮৫ কিলোমিটার রাস্তা এখন ৫ কিলোমিটারে যাওয়া যাবে। এছাড়া অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্র থেকে শুরু করে বপশ কিছু যুব আবাসের উদ্বোধন করলেন তিনি। জয়ী সেতু ও দেবী কামতেশ্বরী সেতুর উদ্বোধন করার পর তিনি উত্তরবঙ্গ বাসীদের এই সেতু দুটো মা যেমন তার সন্তাদের আগলে রাখে ঠিক তেমনিভাবে আগলে রাখতে বলেন। এতকিছু উন্নয়ন মুলক কাজের উদ্বোধন করার পর তিনি কেন্দ্র সরকরকে কটাক্ষ করে বলেন, আমরা সব করে দিয়েছি তোমার কলকাতা শিলিগুড়ি কি করবে বাবাকে কি হামাগুড়ি শেখাচ্ছে? বাংলায় নাকি রাস্তায় বানাবে নির্বাচনের সময়। বাংলায় রাস্তাই রাস্তা দেখাচ্ছে।

আমাদের রাস্তার দরকার নেই যাও গিয়ে রাস্তায় কৃষকরা বসে আছে এই টাকাগুলো কৃষকদের দাও ওই বিল উইথ ড্র করে নিয়ে। বাংলায় রাস্তা আমরা বানিয়ে নেব। নির্বাচনের সময় এই রাজনীতি চলবে না।” আসামে ট্রেন চালানো হলেও কোচবিহারে বা চলারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আসামকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমরা আসামে ট্রেন চালাতে পারো। কোচবিহারে কেন চালাও না। কত দিন আগেই রেডি করে দিয়েছি কেন চালাবে না? তোমরা আসামকে করে দিয়েছে নিজেরা কানেক্টিভিটি করে। আর বাংলা কী হ্যাংলা? যে তোমাদের লজ্জা করেনা? বালুরঘাট রেডি করে দিয়েছি, মালদা রেডি করে দিয়েছি, কুচবিহার রেডি করে দিয়েছি। লোকের কত সুবিধা হয়। তোমরা যদি না চালাও আগামী দিনে আমি কিন্তু চালিয়ে দেব।

তখন বলবে না আমি বেআইনি কাজ করেছে। আমি আইনের পথে পথে বের করে নেব।” এদিন জলপাইগুড়ির মোহিত নগরে একটি সিমেনৃট কারখানারও উদ্বোধন করলেন মূখ্যমন্ত্রী। সিমেনৃট কারখানার মালিকেদর তিনি ধনবাদ জানান ও বলেন,এর ফলে সাত হাজার লোকের সরাসরি কর্ম সংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে আরও অনেকে উপকৃত হবেন। চাটার্ড প্লেনে করে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপুতে যোগদান করার ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তিনি বলেন,” মাইগ্রেট ওয়ার্কাররা আসলে তোমাদের টাকা থাকে না একটা ট্রেনের টিকিট করে দেওয়ার। আর যারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে যারা চুরি ডাকাতি করেচে তাদের চার্টার্ড প্লেনে করে দিল্লি নিয়ে যাচ্ছ।” বাজেট প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, বাজেটে কারুর জন্য কিছু নেই, সব বিক্রি করে এবার দেশটাকেও বিক্রি করে দেবে। কবে এরা দেশ থেকে পালাবে আমি জানি না। অনেক সরকার দেখেছি। যারা মানুষের এত ক্ষতি করে দেশটাকে বিক্রি করে দিতে চায় তারা কি করে দেশপ্রেমের কথা বলে। নেশানটাকে বিক্রি করে দিচ্ছেন আর ওয়ান নেশান ওয়ান রেশন কার্ডের কথা বলছেন।”

স্বাস্থ্য সাথি কার্ডের বিসয়ে তার বক্তব্য কেউ বঞ্চিত হন নি। বছরে পাঁচ কোটি টাকা প্রতি বছর পাবেন। নিশ্চিন্তে থাকুন দিদিও থাকবে আপনারাও থাকবেন। আাগামীদিনে বাংলাই বাংলা। সারা পৃথিবী আজ বাাংলাকে নিয়ে চিন্তা করছে কেন জানেন। বাংলা আজ সারা ভারতবর্ষের দিশারী হয়ে গেছে। এটা মহারাষ্ট্র নয় গুজরাট নয়, উত্তর প্রদেশ নয়, দিল্লি নয়। সবাই বলছে বাংলাই হল পরবর্তী ভবিষ্যৎ। সারা বিশ্ব বলছে। সেই জন্যই তো বলেছিলাম বাংলায় আমরা রাজধানী করতে চাই। একবার তো ছিল কলকাতা রাজধানী। তাহলে আমাদের চারটে দিকে কেন হবে না। এমনি এমনি বলি নি ঐতিহাসিক কারনে বলেছিলাম।”

এদিন শিলিগুড়ির চিকিৎসক শেখর গাঙ্গুলি সহ দার্জিলিংয়ের রঙ্গু সেউরিয়া, সাংবাদিক মৈন উদ্দিন সহ উত্তরবঙ্গের আট জেলার মোট নয়জনকে বঙ্গরত্ন পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি যে একশজন নৃত্য শিল্পি নৃত্য পরিবেশন করেন তাদের নাচের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি ও তােদর ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার মূখ্যমন্ত্রী ফালকাটায় ৩০০ জনের গনবিবাহে উপস্থিত থেকে আরও কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। আগামীকাল বুধবার আলিপুরদূয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভায় উপস্থিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার কলকাতা ফিরে যাবার কথা।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন