সংবাদদাতা,মালবাজার ,২৮ ফেব্রুয়ারী:
চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চারমাস চিকিৎসার পরে শনিবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলো সদ্যোজাত রেশমি । অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে মা বাবার কোলে রেশমিকে ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে নার্স ও কর্মীরা । গত ২৯ অক্টোবর মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের শিশুটির জন্ম হয় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে । এরপরই হাসপাতালেই শুরু হয় চিকিৎসক নার্স ও কর্মীদের সমবেত লড়াই । অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে শিশুটি সুস্থ অবস্থায় মায়ের কোলে বাড়ি ফিরে গেলো শনিবার । শিশুটির এখন দৈহিক ওজন ১ কেজি ৫৫০ গ্রাম । শিশুটির বাবা শম্ভু মাঝি চিকিৎসকদের, নার্স ও কর্মীদের সমবেত প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ।

প্রসঙ্গত মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুরজিৎ সেন বলেন, ” ২৮ সপ্তাহ গর্ভস্থ থাকার সময় অপরিণত অবস্থায় শিশুটির জন্ম হয়। তারপর থেকে হাসপাতালেই সদ্যজাত শিশুটির ধারাবাহিক ভাবে চিকিৎসা চলতে থাকে । চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে । শিশুটিকে হাসপাতালের সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা করা হয়, সাথে চারবার রক্ত ও দামি ওষুধ দেয়া হয় । অবশেষে শনিবার সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ছুটি দেয়া হয়েছে “।

প্রসঙ্গত জানা গেছে, মালবাজার মহকুমার মেটেলি ব্লকের বড়দীঘি চা বাগানের টিলাবাড়ি ডিভিশনের ওজন লাইনের বাসিন্দা শম্ভু মাঝি ও তার পরিবার । শম্ভু বাবু ও তার স্ত্রী গীতা মাঝি দুজনেই বাগানের শ্রমিক । শম্ভুবাবু বলেন,” গত ২৯ অক্টোবর আমার স্ত্রী খাটের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন হটাৎই আমার এক ছেলে স্ত্রীর ওপরে পড়লে তার পেটে যন্ত্রনা শুরু হয়। এরপরই মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসি । অপরিণত অবস্থায় মেয়ের জন্ম হয় । জন্মের পরই মেয়েকে হাসপাতালের সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয় । দীর্ঘ চারমাস ধরে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সমবেত প্রচেষ্টায় মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে । আজকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি আজ চিন্তামুক্ত হলাম । চিকিৎসকরা যে স্বয়ং ভগবানেরই রূপ তা এই জীবনে উপলব্ধি করতে পারলাম। ওনাদের পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানাই “। অপরদিকে শিশুটির মা গীতা মাঝি বলেন,” আমরা মেয়ের নাম রেখেছি রেশমি । আজ ওকে নিয়ে ঘরে ফিরছি। রেশমিকে প্রাণে বাঁচিয়ে ঘরে ফিরবো তা ভাবি নি । সবই হয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের প্রচেষ্টায় । ওনারা ভগবান আমাদের কাছে”। অপরদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে ভর্তির পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স, ও কর্মীদের একটি দল তার চিকিৎসায় ঝাঁপিয়ে পড়েন । দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে সুস্থ শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেন সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ অর্ঘ মন্ডল ও অন্যান্য কর্মীরা । এদিন সকলের চোখে মুখেই ছিল আনন্দ ও মনখারাপের অনুভূতি। চিকিৎসা দলের এক কর্মী বলেন, ” সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে জয় এলো যা এক দারুন অনুভূতি যা আমাদের কর্মজীবনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে “।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন