রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির বিভিন্ন ডিপো থেকে কেরোসিন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে রাজ্যের জেলা গুলি বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ মাসের ১১ ফেব্রুয়ারি কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রাষ্ট্রায়াত্ব তেল সরবরাহ সংস্থা গুলি।

মাসের শুরুতে রেশন দোকানে কেরোসিন তেল মিললেও এখন আর সেই তেল না মেলায় জেলায় জেলায় ক্ষোভ শুরু হয়েছে। সামনে রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগে যে ভাবে পেট্রোল ,ডিজেলের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের দাম যে ভাবে বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তাতে এমনিতে জনমানসের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ভরসা ছিল কেরোসিন। বিশেষ করে” গরীবের বন্ধু” কেরোসিন তেলের সরবরাহ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ায় বিজেপির গ্রামাঞ্চলের নেতাদের একাংশকে রীতিমত লোকজনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার কথায়, “রেশনে কেরোসিন আনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরছেন লোকজন। অন্যদিকে আটশো টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরোসিন তেল না পেয়ে আমাদের লোকজন প্রশ্ন করছেন। গ্যাস,ডিজেল বা পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পর কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না জনগণ। ভোটে এর প্রভাব পড়বে বলে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।“

এদিকে, আচমকা কেন্দ্র কেরোসিনের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ন্ত্রীর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে হঠাৎই এরাজ্যে রেশনে কেরোসিন তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরে জনরোষ বাড়ছে। যা ছড়াচ্ছে অন্য জেলাতেও। খাদ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে প্রতি মাসে রেশনের জন্য তেল বরাদ্দ করা হতো। কিন্তু কোনও কারণ না জানিয়েই বরাদ্দ তেল পাঠানো দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলার খাদ্য দফতরের তরফে, কেন কেরোসিন তেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন