হরিপদ কাপালী

হরিপদ কাপালী।বাংলাদেশের প্রান্তিক চাষি। সাকিন, ঝিনাইদহ উপ জেলার আসাননগর গ্রামে। বছর সত্তরের বৃদ্ধ হরিপদ-র নামে ধানের বীজের নাম করণ হয়েছে হরি ধান। ঝিনাইদহ সহ বাংলাদেশের বহু জেলার চাষিরা এখন হরি ধান চাষ করে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ফলন ঘরে তুলছেন।
আর এই হরিপদ বছর আটেক আগে নিজের জমিতে একটি মাত্র ধানের চারা খুঁজে পান। জমির অন্য ধানের চারার সঙ্গে এই নতুন চারার তফাত লক্ষ্য করেন তিনি। আগাছা পরিষ্কারের সময় ওই একটি মাত্র চারা জমিতে রেখে দেন তিনি।

জমিতে যখন ধান ফলছিল তখন ওই নতুন জাতের চারার ধান অন্য গুলির তুলনায় শীষে প্রায় দ্বিগুণ ধান হয়েছে দেখে ওই ধানের বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন। প্রায় তিন বছর এই ভাবে নতুন ধানের বীজ সংরক্ষণ করে জমিতে ফলানোর পর বাকি চাষিদের চোখ পড়ে হরিপদের ধানের জমিতে।

ধানের ফলন দেখে বাকি চাষিরা ওই ধানের চারা হরিপদের থেকে নিয়ে ধান ফলান। বিঘা প্রতি আঠারো থেকে কুড়ি মন ধান ফলাতে পেরে উৎসাহিত কৃষকেরা ওই নতুন ধানের নাম করণ করেন হরিপদ-র নামে। হরি ধান এখন বাংলাদেশের কৃষকদের খুব চেনা।
সে দেশের সরকার হরিপদ কে সম্মানিত করেছে। সাদামাটা প্রান্তিক ওই চাষি এখন কৃষকদের কাছে রীতিমত সেলেব্রিটি হয়ে যান। হরিপদের পরিবারে রয়েছে তাঁর স্ত্রী ও পালিত পুত্র রূপ কুমার।

গ্রামের কৃষকরা জানান,অন্যান্য জাতের ধান বিঘা প্রতি ১১-১২ মন উৎপাদন হয়। তবে হরি ধানের উৎপাদন হয় ১৮- থেকে কুড়ি মন। তাছাড়া এই ধান ফলনে সার ও জল সেচের খরচ সামান্য।
কিছু দিন আগে হরিপদ চির বিদায় নেন। তবে হরি ধানের জন্য তিনি বাংলাদেশে অমর হয়ে থাকবেন।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন