সঙ্কট মোচন বজরংগ বলি হলেন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা পরম পূজনীয় রামের একনিষ্ঠ ভক্ত। হিন্দু পুরাণে হনুমানকে বিশেষ স্থান দেয়া হয়েছে। রামায়ণে বর্ণিত হনুমান পবননন্দন হিন্দুদের পরম পূজনীয়। বিষ্ণুর আরেক অবতার প্রভু রামের অনুগত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। তিনি পবনদেবতার পুত্র। হিন্দুদের কাছে হনুমান রামভক্ত হিসেবে পরিচিত এবং পূজ্য ।

এই প্রসঙ্গে কিছু তার মহিমা আমাদের সকলেরই জানা ….. কথিত আছে মহাবীর অমর। পরবর্তীতে মহাভারতে এও মহাবীরকে লখ্য করা যায় ।এই মহাকাব্যে তিনি কেমন যেন এক ধীর-শান্ত ব্যক্তিত্ব। তার বীরভাব এখানেও বজায় রয়েছে । কিন্তু তার সাথে যুক্ত হয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা।

হনুমান এবং ভীম দু’জনেই পবনপুত্র। সুতরাং তাঁরা ভ্রাতা। পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময়ে হনুমান এক অসুস্থ এবং বৃদ্ধ বানরের বেশে ভীমকে দেখা দেন। ভীম ছিলেন আত্মগর্বী এবং তাঁকে শিক্ষা দেওয়াই ছিল মহাবীরের উদ্দেশ্য। একদিন মহাবীর অসুস্থ বৃদ্ধের ছদ্মবেশে শুয়ে ছিলেন। ভীম তাঁকে অতিক্রম করতে চাইলে তিনি ভীমকে বলেন তাঁর লেজটি সরিয়ে চলে যেতে। ভীম বহু চেষ্টাতেও সেই লেজ সরাতে পারেননি। শেষে তিনি অনুভব করেন, এই ব্যক্তি কোনও সাধারণ বানর নন।শেষমেষ তিনি মোহাবীরের শরণ নেন।হনুমানের সঙ্গে অর্জুনেরও দ্বৈরথ ঘটেছিল। সেতুবন্ধ রামেশ্বরমে অর্জুন এক ক্ষুদ্রবানরের সম্মুখীন হন।

অর্জুন তার সামনে বলেন, বানরদের সাহায্য না নিয়ে রামচন্দ্র একাই সেই সমুদ্র-সেতু নির্মাণ করতে পারতেন। তির যোজনা করেই তো সেটা করা সম্ভব ছিল। ক্ষুদ্র বানর অর্জুনকে আহ্বান জানায় ওই কাজ করে দেখাতে। অর্জুন ব্যর্থ হলে ক্ষুদ্র বানরের ছদ্মবেশ ত্যাগ করে হনুমান প্রকট হন। অর্জুন তাঁর শরণ নিলে, তিনি অর্জুনের রথশীর্ষে অধিষ্ঠান করবেন বলে বর দেন। অর্জুনের রথের উপরে তাই ‘কপিধ্বজ শোভা পায় ।

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষ হলে অর্জুন রথ থেকে নেমে আসেন। কৃষ্ণ, হনুমানকে ধন্যবাদ জানান অর্জুনের রথশীর্ষে অবস্থান করার জন্য। হনুমানও ধ্বজা-রূপ ত্যাগ করে স্বমূর্তি ধারণ করেন। তিনি বিদায় নিলে রথটি ভস্মে পরিণত হয়।

তারপর অর্জুনকে কৃষ্ণ জানান, ভয়ানক সব অস্ত্র এই রথের উপরে বর্ষিত হয়েছে। হনুমান রক্ষা না-করলে রথটি অনেক আগেই ভস্মীভূত হত। বজরংগ বলীর মহিমা ভক্তদের ওপর অসীম এ কথা মানতেই হবে কারণ বিপদের সময় তিনিই সঙ্কট মোচন কারী । জয় বজরংগ বলী ।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন