অনিকেৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা

বিজেপি বিধায়ক খুনে ফের উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সকাল থেকেই বাকযুদ্ধে বাংলার দুই প্রধান। নিউটাউনের বাসভবন থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, ‘এর শেষ দেখে ছাড়ব।’
এদিন বেলায় নিজের বাসভবনে ফিরহাদ হাকিম বিজেপি রাজ্য সভাপতি পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালেন। তিনি বলেন, ‘আসলে ওনারা নিজেরাই এত অন্যায় করেন। এনকাউন্টার থেকে আরম্ভ করে সবকিছু করেন। তাই নরমাল কেসটাতেও সিবিআই চাইছে। মাথার মধ্যে করোনা ঢুকে আছে যাদের, তারা এই ভুলভাল রটায়। সেখানকার গ্রামের মানুষ দেখেছে। পুলিশ তদন্ত করছেন তার পরেও সিবিআই চাইছেন ওনারা। পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায় পুরো ব্যাপারটাই সেরকম।’ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে ফিরহাদ বলেন, ‘সিবিআই তে হবেটা কি? আমাদের এখানকার পুলিশ অনেক বেশি কেস করেছে সিবিআইয়ের থেকে। তাই আমরা প্রশাসনের ওপরই ভরসা রাখছি এর ফলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। আত্মহত্যা না খুন হয়েছে তাতে পুলিশের ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।’

এদিন ফিরহাদ আরো বলেন আমাদের কাছে মানুষের জীবন বা মানুষের সুরক্ষা রাজনীতির ওপরে। কিন্তু বিজেপির কাছে মানুষের সুরক্ষার তুলনায় রাজনীতি বেশি বড়। মানুষের কি হলো কি হলো না তাতে ওদের কিছু যায় আসে না। এখানে যেখানে এত মানুষ প্রতিদিন মারা যাচ্ছে আক্রান্ত হচ্ছে। সেখানে সরকার ফেলার রাজনীতির জন্য লকডাউন কেন দেরি করে হল তার কারণে এমপি ফেলার দরকার ছিল? এই পরিস্থিতিতেও ওরা ওদের কাজকর্ম বিভিন্ন জায়গায় একই ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে যেমন রাজস্থান তাই তাদের কাছে রাজনীতি বড় হলেও আমাদের কাছে মানুষের সুস্থতা অনেক বড়।’

অন্যদিকে মৃত বিধায়ক কোন দলে তা নিয়ে টানাপোড়েনের রাজনীতি চলছে। একদিকে বাম-কংগ্রে দাবি করছে মৃত বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায় বামকং জোটের বিধায়ক ছিলেন। স্পিকারের কাছে তিনি ইস্তফা জমা দিলেও তা গৃহীত হয়নি বলে দাবি করা হয় জোটের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে বিজেপি মৃত বিধায়ককে তাদের দলের লোক বলেই দাবি করছে। এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, ‘ লাশ ধরার রাজনীতি চলছে। বিজেপি করলে ডিপ্রেশনে ভুগতে হয়। তাই তিনি ও তাঁর এমপি এমএলএ রা ডিপ্রেশনে ভুগছেন।’

এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে ফিরহাদ বলেন, বিজেপি অর্ধ শিক্ষিত। অর্ধ শিক্ষিত হলে যা হয় তাই। কেউ বলে গরুর দুধে সোনা পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলে গোমূত্র পান করলে কোরোনা ভালো হয়ে যায়।’

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন